ছিন্নমূল মহুয়া ও বিষাদ বালক
অনুগল্প
ছিন্নমূল মহুয়া ও বিষাদ বালক
সমরেন্দ্র বিশ্বাস
ছলকুর মা বাবুজীর বাড়িতে কলতলায় একডাই বাসন মাজছিল।
একটু টান দিতেই ছলকুর অনিচ্ছুক হাতে মহুয়ার টবটা চাকনাচুর হয়ে
গেল। বেড়িয়ে
পড়লো একগুচ্ছ কচিকচি শেকড়। মহুয়ার
চারাটা এখনই ফিরে যেতে চাইছে ভিজে অন্ধকারে, ফেলে আসা জঙ্গলের
গভীরে।
ছলকুও এমনটাই হয়। ও
ফিরে যেতে চায়। অথচ
রোজ ভোরে বিসাদবাই ওকে টানতে টানতে কাজের বাড়ী নিয়ে আসে। বছর দশেকের ছলকু, ওর ভাল্লাগে না এই শহর। স্বপ্নে
ভাসে বস্তার-এর আদিবাসী জঙ্গল, শাল
মহুয়া। মনে
পড়ে ন্যাংটো কালের সঙ্গীসাথীদের!
বিসাদবাই ঠিকে ঝি-এর কাজ করে। ছলকুকেও কাজে লাগায়। ছলকু বাগান সাফ করে, টবের গাছে জল দেয়। যখন
জল ঢালে,
ছড় ছড় জলের শব্দে ওর সামনে জেগে ওঠে গ্রামের ফেলে আসা সেই পাথুরে নদীটা!
বিসাদবাই-এর ডোকরাকে (স্বামী) উগ্রবাদী সন্দেহে কারা ধরে নিয়ে গেছে!
ওদের গ্রামের ছাউনিগুলোকে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে! পাঁচ বছরের বাচ্চাটাকে কোলে নিয়ে গ্রামের আরো মানুষজনের সাথে বিসাদবাই এসে
উঠেছে এই শিল্প-শহর ভিলাইএর বস্তীতে।
বাবুজীর আউরত, এই বাড়ীর মালকিন,
মাতাজী ইতিমধ্যে ব্যালকনিতে এসে দাঁড়িয়েছেন। ভাঙ্গা টবটা দেখতে পেয়ে বললেন –
‘শখ করে বাবুজী তুলে এনেছিল মহুয়াচারাটা! জঙ্গলের
গাছকে কি ঘরের টবে উগানো যায়? ভালোই হয়েছে। যা ছলকু, টবশুদ্ধু গাছটাকে রাস্তার ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আয়!’
মাতাজীর কথামতো ঘরের টবে উগানো একদা অরণ্যের এক ছিন্নমূল মহুয়াকে
আস্তাকুঁড়ের স্তুপে ছুঁড়ে ফেলতে পা বাড়িয়েছে আরেকজন ছিন্নমূল বিষাদ-বালক!
Published – চাতক – Sharadiya-2020
Comments
Post a Comment