Posts

দাবানলের হরফেরা

Image
  দাবানলের হরফেরা   সমরেন্দ্র বিশ্বাস # জোছনার ব্যাগ ভরে যাচ্ছে বহু বছর আগেকার ধোঁয়ায় ! ক্লান্ত রাতগুলো ভাঙছে দগ্ধ স্মৃতির লকার , কেঁপে কেঁপে উঠছে নিঃসঙ্গ নক্ষত্রেরা । বুকের ভেতর টি টি ডাহুক পাখি , দূরের নির্জনে কোথাও বাজছে সমাপ্তি সঙ্গীত । এই আয়ুস্মান রাতে আজ আকাশটা কেনই বা পাঠালো দাবানলের হরফ - ভুলে যাওয়া মহাশ্বেতা আলো ? কতদিন আগেই তো আমি আগুনে জ্বালিয়ে ফেলেছি দাহ্য বর্ণমালা বিসর্জন দিয়েছি আঁকাবাঁকা হরফগুলোকে ধুয়ে ফেলেছি শিশিরের জলে লেখা প্রেম উড়িয়ে দিয়েছি জিপসি মেয়েটার ব্যবিলন হাওয়া ! রাত্তিরের খোলা শরীরে এখন অবারিত বিভাজিকার কুহু , জলস্রোতে স্মৃতিমাখা শীতকাল । শাড়ীতে জড়ানো ন্যাপথলিনের গন্ধ , দাউ দাউ দাবানল   হরফগুলো থেকে দগ্ধ ধোঁয়ারা এখনো উড়ছে !   [ Published ]                 [ " আড্ডা নিউ জার্সি" ই-ম্যাগাজিন & Other ]

রাতের রাস্তা

Image
রাতের রাস্তা   সমরেন্দ্র বিশ্বাস # অন্ধকার গায়ে মেখে মায়ের এলোচুলের মতো নির্জন রাস্তাটা আজও কার অপেক্ষায় ? রাত্রি জানে না ! রোগা লম্বাটে হাত বাড়ানো প্রাগৈতিহাসিক মনুষ্যত্ব সার্বজনীন ঘড়ির কাছে আজও ভিক্ষে চায় , কি চায় , কেন চায় ?- রাত্রি জানে না ! # হাওয়ার পোষাকে এসেছিল হল্লাবাজ আতাতায়ীর দল ! সাইরেণ বাজিয়ে ছুটে গিয়েছিল ভ্যান গাড়ী , পার্কের কোণাটাতে কেনই বা পড়ে ছিল নিরাপরাধ লাশ , কি পার্টি করতো সে ? মর্গের ইঁদুর দেখাতে সবিনয়ে কেন এসেছিল শববাহী গাড়ি ? রাত্রি জানে না ! # ‘ জাগতে রহো !’- অন্ধ ও বোবা চৌকিদারটা কি এ সময়ের অবরুদ্ধ বিবেক ? একরাশ উস্কো খুস্কো অন্ধকার , মায়ের এলোচুলের মতো চিরকালীন রাস্তাটা আজও কার অপেক্ষায় ? রাত্রি জানে না !         KATHA -  c/o - AMIT ROY , Published in July-Dec-2021 issue. Picture from Net  

জেব্রার থিওরোম

  কবিতা জেব্রার থিওরোম   সমরেন্দ্র বিশ্বাস     জেব্রার সাদা কালো দাগে হাত বুলিয়ে কেউ কি সমাধান করতে পা রে জ্যামিতির থিওরোম? চিড়িয়াখানা থেকে বেরিয়ে এসেছে যে স্কুল , সেখানে আমার সেকেন্ডারীর ক্লাস টা ঝোলানো আছে ধার করা জামার ছেঁড়া পকেটে । টানটান টাকার - সেতার বাজে ফেমাস স্কুলে। শহরে শহরে শিক্ষকদিবসের ইভিনিং শো - তে আজকাল খুব ভীড় । আমার কি আর ম্যাট্রিক, থুরি , সেকেন্ডারীটা পাশ করা হলো না ? আকাশ থেকে উড়ে আসে বইএর বিচিত্র মলাট; কাকের পালকেরা লেপ্টে থাকে ল্যাপটপের সৌখীন ঘাসে । জীবনের ক্যালেন্ডার আর পরীক্ষার সিলেবাসে কোন তালমিল আছে কি ? তবুও যানজটে দিশেহারা আমি পৌঁছে যাই প্রেইরী ঘাসের জঙ্গলে । সেখানে ফিস্ ‌ দেয়া সম্ভ্রান্ত ছেলেমেয়েরা ঘাসের বেলুন ফোলাচ্ছে। জেব্রার জামা পরে শিক্ষকেরা ঘুরে ঘুরে ঘাস খাচ্ছে । বিজ্ঞাপনের সাইরেণ বাজলে তথাকথিত শিক্ষা পর্ষদের জুতোর লেস খুলে যায়। ঘোষিত   হয় – হায়ার সেকেন্ডারী পাশের ধূলোট বাদামী রাস্তা পোলট্রির মুরগীদের মতো মিথ্যে মিথ্যা মিথ্যা ! মেশিনে ঢালাই করা নতুন নতুন রাস্তা চলে গেছে অসম্ভব সমস্ত বর্ণাঢ্য থিওরোমের দিকে , সেখা...

সম্ভ্রান্ত, তোমাকে স্যালুট

  সম্ভ্রান্ত , তোমাকে স্যালুট # সমরেন্দ্র বিশ্বাস # তোমার সামনে অসহায় মাথা ঝুঁকিয়ে আছে তোমাকে অসহায় প্রণিপাত করছে - বিষয়টা বহুৎ পুরোণো কিছুটা শ্বাসরোধী ধোঁয়া কিছুটা জট পাকানো অহঙ্কারের মতো # অসহায় লোকগুলো মাথা ঝুঁকিয়ে আছে ইতিহাসের পৃষ্ঠাগুলো একটু আধটু নড়া চড়া করছে । # তোমাকে লোকগুলো প্রণিপাত করছে ওদের সামনেই সেই স্যালুট স্যালুট রাস্তাটা ধরে জুতোর খুরে ধূলো উড়াতে উড়াতে তুমি নিশ্চিতই হেঁটে যাচ্ছো শিরোপাবিহীন পতনের দিকে!       শারদীয়া শব্দসাঁকো- 1427( 2020) Pub. / Rangin Canvas -   E Mag – Aug’2021    

গোলপোষ্ট

  গোলপোষ্ট সমরেন্দ্র বিশ্বাস   সামনেই গোলপোষ্ট। ফুটবল যাচ্ছে, পিছিয়ে আসছে, জালে জড়াচ্ছে - হাসপাতালের করিডোর একটা দিগন্ত প্রসারী ফুটবলের মাঠ ! তাদের ই গোলপোষ্টে ঝুলে আছে অনেকগুলো জালে আটকানো দরোজা চক্ষু বা শরীর মেরামতের জন্যে যারা আজকাল ময়দানে আসছে হাসপাতালের দরোজা দিয়ে তারা জড়িয়ে যাচ্ছে জালে । ফুটবলের মতো গড়িয়ে গড়িয়ে আসা মানুষ জনকে গিলে গিলে খাচ্ছে এই ময়দানে র বড়ো বড়ো প্লেয়ার, হাড় জিরজিরে কিছু কিছু মানুষ মিলিয়ে যাচ্ছে গোলপোষ্টের আড়ালে ! অন্ধ করিডোর আর দরোজাগুলো পেরিয়ে কেউ কেউ কোনক্রমে জাল কেটে   ফিরে আসছে নিজের গ্যালারীতে ; দর্শকদের আসনে বসতে গিয়ে সে দেখছে তার জায়গা দখল নিয়েছে তারই মতো কয়েক জন চশমা - ভাঙ্গা লোক , গায়ে তাদের ফর্মালিন কিংবা জালের আঁশটে গন্ধ। সামনেই গোলপোষ্ট। মানুষেরা এগোচ্ছে, পিছিয়ে আসছে, জড়িয়ে যাচ্ছে জালে!     প্রকাশিত – শতানীক , নববর্ষ ১৪২৯ [ April-2022 issue]  

বিকলাঙ্গ মানুষ

  অনুগল্প বিকলাঙ্গ মানুষ সমরেন্দ্র বিশ্বাস লেথরে লেথরে চলছে কিছু বিকলাঙ্গ মানুষ। ঘড়ির কাঁটা পিছিয়ে গেলো কয়েকশো বছর আগে। সে যুগে বেপাড়ার একদল লোক একটা বিশাল বটবৃক্ষের নীচে বসেছিলো। সেখানেই তারা হাঁক দিচ্ছিলো – ‘জয় হো রাম! জয় রাম!’ তাদের সেইসব হাঁকগুলো আটকে রইলো গাছের বাদামী বাকলে, সবুজ পাতায়। মানুষগুলো চলে যেতেই আরেকদল লোক এলো দূষিত গাছটাকে কাটতে। তারা মেশিন-করাত এনে রাম-নাম মাখা গাছটাকে কেটে মাটিতে শুইয়ে দিলো! পুরোনো দিনের কথা! মসজিদের পাশে বিশাল জলাশয়। কিছু মানুষ জলের দিকে মুখ করে হাঁক দিচ্ছিলো – ‘আল্লা হো আকবর! আল্লা হো আকবর!’ এই আওয়াজ অন্য কিছু মানুষের কাছে আপত্তিকর এবং বিধর্মীয় মনে হোলো! মানুষেরা ভাবলো মসজিদের পাশের ওই জলাশয়টা অপবিত্র হয়ে যাচ্ছে। কিছু দিনের মধ্যেই প্রোমোটার ডেকে রসুলের নামাঙ্কিত ওই জলাশয়টাকে রাবিশ ঢেলে ভরাট করে দেয়া হলো। সে সব দিনে এই গ্রহে ধর্মীয় উস্কানি আর রাজনৈতিক খবরদারি লেগেই ছিলো। হেলিকপ্টার থেকে দিন দুপুরে একটা চার্চের উপর কারা যেন বোমা ফেলে গেলো। হাজারো মানুষের চীৎকার! চার্চ আর আশপাশের বাড়িঘরগুলো চুরচুর হয়ে মাটিতে গুঁড়িয়ে গেলো। এতো ধূলো ...

ভ্যান ভর্তি মাল

  ভ্যান ভর্তি মাল সমরেন্দ্র বিশ্বাস # ম্লান ছিল পৃথিবীর মস্তিষ্কের আলো দুঃখে দুঃখে গর্জেছিল মেঘেদের ভেলা, ডুমুরিয়া কলাবনে নষ্ট বিকেলেই বসেছিল লগ্নহীন বাসরের কালান্তক খেলা ! মেয়েটির পথে পথে কেটেছিল কাল, মৃত্তিকা শরীরে তার কারা যেন চষেছিল আর্তনাদী হাল! লম্পটেরা চিরতরে চুরি করেছিল কলাবনে ম্লান আলো, ছিঁড়েছিল মোচার বিকাল । # খবর কাগজে ওঠে নড়ে চড়ে   বেশরম ভিত, কলাবনে দামিনীর মৃতদেহ পড়ে ছিল চিৎ । সাক্ষী নেই কেউ? সাক্ষী আছে, দেশ জানে প্রতিদিন বস্ত্রহীন রক্তে ছেঁড়া খাল! ডুমুরিয়া হাই–ওয়ে ধরে সার্চলাইট ফেলে সামাজিক চলে যায় ভ্যান ভর্তি মাল ।     [ কাব্যগ্রন্থ -   অনন্ত জলশব্দে আমি (2016) ]