Posts

নিষিদ্ধ কপাট

  গল্প নিষিদ্ধ কপাট সমরেন্দ্র বিশ্বাস একটু পরেই আকাশে ঝড় উঠবে । কলিংবেল বাজালাম । ‘আরে, তুমি ?’ -                      ‘মিহিরদাকে একটা ম্যাগাজিন দিতে এসেছিলাম।’ -                      ‘ও তো বাড়ী নেই, অফিসের কাজে দিল্লীতে গেছে।’ কি করবো বুঝতে পারছিলাম না। অজন্তা বৌদিই দুদন্ড কিছু ভাবলো, বললো - ‘ভেতরে এসো। বাইরে ততক্ষণে প্রচন্ড বৃষ্টি শুরু হয়ে গেছে । অগত্যা ঘরের সোফায় গ্যাট হয়ে বসে পড়লাম। মিহিরদার সাজানো গোছানো পরিপাটি সংসার । দাদা আমার কলেজের সিনিয়ার, একই জয়গায় চাকরী করে, সেইসূত্রে চেনাজানাও । এক চিলতে বারান্দা। লাগোয়া বসবার ঘর। ঝড়ের প্রচন্ড হাওয়া । ঘটাং করে উদ্দাম দরজাটা বন্ধ হয়ে গেলো। বৌদি এগিয়ে গিয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া দরজার কপাটদুটো খুলে দিলো। সরিয়ে দিল সামনের ভারী পর্দাটাও । বসলো আমার সামনের চেয়ারে। দু ’ একটা কথা বার্তার পর উঠে পড়লো- ‘একটু বসো সুমন, চা আনছি।...

দীর্ঘশ্বাসের কবিতা - ২

  দীর্ঘশ্বাসের কবিতা - ২ সমরেন্দ্র বিশ্বাস @ সকাল # সারা রাত্রি বৃষ্টি ঝরেছিল সারা রাত্রি কেউই ঘুমোতে পারি নি। মেঘ কেটে গেলে রামধনু উঠেছিল। তখনই তোমাকে দেখলাম , চুপিচুপি দেখলাম তোমার দু ’ চোখে অরণ্যের সকাল , ঠোঁটে হাসিটুকু যেন প্রত্নগুহার চিঠি। @ বিকেল # সারা দুপুর কলম পিষেছি , কাজ করেছি ; সারা দুপুর রক্তে তুমি রিনরিন বেজেছ। হঠাৎ বিকেলে আজ কি এমন হল দেখেও না দেখার মতো তুমি চলে গেলে সম্ভাষণহীন। @ রাত্রি # একে একে তোমার ঘরের লাইটগুলো নিভে গেল। জানালার সরু ফাঁক দিয়ে গড়িয়ে পড়ল তীব্র নিঃশ্বাস। লম্পটের মতো আমি সারারাত্রি কালভার্টে বসে রইলাম , একটা রাতপাখি সারারাত্তির ডেকে চলল যন্ত্রণাকে। @ উপসংহার # ঘুরতে ফিরতে যে স্বপ্নগুলো কুড়িয়ে পেয়েছিলাম তার সবটুকু জমা করেছিলাম তোমারই হাতে , জানতাম , তোমার দু ’ হাতেই এসব মানায়। মাঝে শুধু কতগুলো দিন , তোমার হাতে সেসব স্বপ্ন আজ নুড়ি পাথরের ঢেলা!   [ পিতৃস্মৃতি , উদ্বাস্তু শিক্ষিকা ও অন্যান্য কবিতা (2005) ]  

দীর্ঘশ্বাসের কবিতা – ১

  দীর্ঘশ্বাসের কবিতা – ১ সমরেন্দ্র বিশ্বাস @ একেকটা দিন # একেকটা দিন তোমার চোখের মতো উদ্বিগ্ন একেকটা দিন তোমার চুলের মতো এলোমেলো একেকটা দিন তোমার ত্বকের মতো অমসৃণ # একেকটা দিন তোমাকে স্পর্শের মতোই বিদ্যুতময় ! @ অভিসার # শীত রাত্রি গাঢ় হলে পৃথিবীটা পরে নেয় কুয়াশার সাদা সোয়েটার । অন্ধকার বারান্দায় দাঁড়িয়েছি আমি চাঁদটুকু নিভে যাবে বলে - তুমি কথা দিয়েছিলে – আসবে । @ দীর্ঘশ্বাস # তোমার দীর্ঘশ্বাস আমার শরীর ছুঁয়ে গেলে নিমেষেই জ্যোৎস্না হয়ে যাই -      বাতাস শুনশান । বড় বেশী হাহাকার     অনন্তের প্রতীক্ষায় ! @ দৃশ্যটা # যা ভেবেছিলাম বাস্তব তা ছিল কিছু জোড়ালাগা স্বপ্নের টুকরো - তাই একটুও শব্দ না করে দৃশ্যটা মিলিয়ে গেল । শুধু জেগে রইলো দীর্ঘশ্বাস @ উপলব্ধি # আজ সকালে তুমি মনে করিয়ে দিলে কথাগুলো যেন সমুদ্র থেকে উঠে এল ভারী হাওয়া । দেখলাম আমার চারধারের শূন্যতারা একে একে সরে যাচ্ছে ।      [ পিতৃস্মৃতি , উদ্বাস্তু শিক্ষিকা ও অন্যান্য কবিতা (2005) ]  ...

দুঃখিনী মায়ের ঘ্রাণ

Image
  দুঃখিনী মায়ের ঘ্রাণ # সমরেন্দ্র বিশ্বাস # দুঃখিনী মায়ের ঘ্রাণ যেন মিশে আছে হেমন্তের পাতায় পাতায়। কাঠের ধোঁয়ার গন্ধ ধীরে আসে ভেসে - স্মৃতি যেন শ্মশানের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদী জল। মায়ের শরীর আজ নিভে যাওয়া ধোঁয়া ভাঙ্গা ঘর , মুলিবাঁশ বেড়া , দুয়ারে পুকুর - পানা শ্যওলার চাপা গন্ধ শুধু স্মৃতি নিয়ে আসে , মাটির দাওয়ায় কাঠের উনোনে রুটি সেঁকে আজও হেমন্তের শীর্ণ দুটো হাত। সংসারের ঘ্রাণ নিভে যাওয়া ধোঁয়া যেন গ্রীল ভেঙ্গে উঠে আসে শোবার বাসরে , দুঃখিনী ধোঁয়ার ঘ্রাণ আজও উড়ে মিশে যায় আকাশের তারায় তারায়! #  

ভারবাহী

  ভারবাহী # # # #   # প্রস্তাবনা কোন দিন সবুজ দ্বীপ সফরের সাধ আমার মায়ের ছিল কিনা জানি না , যৌবনে স্বপ্নের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে বাবা সোল্লাসে কোন গান গাইতেন কিনা , তাও বুঝে উঠতে পারিনি , আজ প্রৌঢ়া নারীর দু ’ চোখে যখন বাদামি খড়কুটো বাসা বাঁধে একজন বয়স্ক মানুষের সমস্ত আবেগ যখন পাথরের ভারে ঝুলে পড়ে তখন তাদের সন্তান আমি কীই বা করতে পারি , একা একা ধূসর রাস্তায় হাঁটা ছাড়া ?   # গাধার পোষাক ধূসর রোদ্দুরে পিঠে-বোঝা শরীরটার কিম্ভুতকিমাকার ছায়া যখন রূঢ় রাস্তায় ঘষটাতে থাকে মনের সুকোমল আস্তরণের ছাল-চামড়া উঠে যখন রক্তপাত ঘটতে থাকে তখন কেনই বা আমি যন্ত্রণায় কাতর হব ? কারণ এর জন্য মানুষেরা ভারবহনের নির্ধারিত মজুরি নিয়মিত পায় যে মজুরি দিয়ে কেনা হয় মানুষের সামাজিক আবরণ।   # অনুশোচনা বাবা , মা , কেন তোমরা আমায় শিখিয়েছিলে পোশাকের ব্যবহার ? এই পোষাক পরতে পরতেই তো তোমরা ভুলে গিয়েছিলে যাবতীয় গান , স্বপ্নের স্মৃতি এই পোষাকের উৎস খুঁজতেই খুঁজতেই তো ঠিকানা হারিয়ে আমি পৌঁছে গেছি উলঙ্গের সমাবেশে।   # ভবিতব্য ভারবাহী আমাদের সন্তানেরা যে রাস...

মুখ ও মুখোশ

Image
  গল্প মুখ ও মুখোশ সমরেন্দ্র বিশ্বাস #এক # এয়ারপোর্টের গেট দিয়ে দিয়ে ঢোকবার সময়ে সাইডব্যাগে আরেকবার দেখে নিচ্ছিলাম আমার দরকারী জিনিষগুলো - মুখোশ, টুপি, পরচুলা, নকলি গোফ। একটু ভয় ভয় করছিল। তখনই নজরে পড়লো পুরোনো পরিচিত মুখটা। লোকটা এদিকেই এগিয়ে আসছে! যাক গে, আমি যাবো বোম্বের ফ্লাইটে - মেয়ের কাছে । হনহন করে এগিয়ে গেলাম চেকিং পয়েন্টে। ফ্লাইটটা এসে গেছে। হাত পাদুটো নাচাতে নাচাতে হ্যাণ্ড-লাগেজগুলো নিয়ে চেকিং টেকিং করিয়ে টিকিট দেখিয়ে উঠে গেলাম প্লেনে। আমার জানালার পাশেই সীট। সীটে বসেই ছিলাম। তখন ভিমরি খেয়ে দেখলাম সেই মুখটাই এদিকে এগিয়ে আসছে! লোকটা আমার পাশের খালি সিটটায় বসলেন। বসবার পর সীট বেল্ট বাঁধতে বাঁধতে উনি আমার দিকে বারবার ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে লাগলেন । উনি কি এতোদিন বাদেও আমাকে চিনতে পেরেছেন? না, আমি ওনাকে চিনি না!  সীটে বসে বসেই স্যুটেড বুটেড মানুষটা আমার সঙ্গে আলাপ জমানোর চেষ্টা করলেন - ‘আর ইউ ফ্রম নয়ডা? আই রিকগনাইজ ইউ, মিষ্টার ব্যানার্জী? ফ্রম মেন্সি লিমিটেড?’ কি ঝকমারি! এই লোকটাকে আমি আমার পুরোনো এক্সিকিউটিভ মুখখানা দেখাতে চাই না। ‘সরি! ইউ আর ডুইং সাম মিসটেক!’- আ...