Posts

বর্ণমালা –স্কুল বালকের

  বর্ণমালা –স্কুল বালকের সমরেন্দ্র বিশ্বাস   ১ রাস্তা দিয়ে   কতকাল হেঁটে যাচ্ছে মানুষের কথা , ক্লান্ত বর্ণমালা – ওদের দিকে হাত বাড়িয়ে আমি এক স্কুল বালক শব্দমালার সাথে হ্যান্ডশেক করবো , রাস্তায় সেই তো কবে থেকে দাঁড়িয়ে পিঠে স্কুলের ভারী ব্যাগ । সময় বেশী নেই অন্ধ স্কুলে বেজে চলেছে সতর্ক ঘন্টা !   ২ ভাবনার মতো   থমথমে আকাশটা নীল ; বর্ণমালাদের সারাদিন ঘোরাফেরা আকাশের নীলে, ময়দানে, বাজারে, রেল স্টেশনে । পৃথিবী থেকে তুলে নেয়া কিছু গদ্যপদ্য ভাষার সাথে মিশিয়ে সকলের সাথে ভাগ করে নেবো , বর্ণমালাদের সাবেকি পোষাক ছিঁড়েখুঁড়ে ভেবেছি আমাদের কাহিনী বানাবো ।   ৩ তীব্র সব বর্ণমালা ছুটেছে আকাশে যেন কেশর ফোলানো সাদা সাদা ঘোড়া, ওদের মিলেছে ডানা, অশ্বক্ষুরে অর্বুদ স্ফুলিঙ্গ ! এইসব উড়ন্ত আগুনকে সবার অজান্তে স্কুল ব্যাগে ভরে রাখি আমি ।   ৪ একুশে ফেব্রুয়ারী ঘটে গেছে কবে , নীল আকাশের নীচে তবু তীব্র আগ্রাসন ! স্কুলে স্কুলে আমাদের প্রিয় ভাষা নীল-ডাউন হয়ে আছে । ভাষা তুমি কি জানো না - আমরা আজও ততো ভাল নেই ? ...

হে যৌবন, অশ্বারোহী

Image
  হে যৌবন, অশ্বারোহী সমরেন্দ্র বিশ্বাস # আমি বললাম, দাঁড়াও । ঢ্যাঙ্ ঢ্যাঙ্ করে সে সোজা হাঁটতে লাগলো সামনে । আমি বললাম, কাঠাঁলী চাঁপার ঝোপে সাপ থাকে। সে কথা শুনলো না বনময় ঘুরে ঘুরে খুঁজে খুঁজে সে গায়ে মাখিয়ে নিয়ে এলো কাঁঠালী চাঁপার সুগন্ধ । বললাম, এমনি করে জীবন কাটানো মানে নিজের বিরুদ্ধে হটকারীতা ! তবু সে শুনলো না – তাকে দেখা গেল সুন্দরবনের জঙ্গলে, তাকে দেখা গেল মিছিলে, শহীদ মিনারে, সে কথা শুনলো না – দিনরাত ঘুরে বেড়ালো বাবুইডাঙ্গার মাঠে, কেন্দুলিতে গিয়ে সে বাউল হয়ে গাইলো, জেলের নৌকায় ঘুরে ঘুরে শেষ করে দিল কতদিন সে কথা শুনলো না – বেসাতি মেয়ের মুখে মুখ রেখে সে নীলকন্ঠ হয়ে গেল লোকাল ট্রেনের চাকা রুখে দিয়ে ভগবান হয়ে গেল একটা ক্ষ্যাপা ষাঁড়ের পিছু তাড়া করে ...... সে কথা শুনলো না – সে কথা শুনলো না । # একদিন দেখি যুবকটা উঠে আসছে পরিত্যক্ত এক পাতকুয়ো থেকে, কোলে তার পড়ে-যাওয়া অর্দ্ধমৃত এক শিশু   – হো হো করে হেসে উঠছে সেই যুবক, কারো নিষেধ না শুনে সমস্ত পৃথিবীর অর্দ্ধমৃত আত্মাকে কোলে নিয়ে সে আপন খেয়ালে মৃত্যুর বিরুদ্ধে লড়াই লড়াই ...

কৃষিজীবির মেঘ ও মেমোরি

  কৃষিজীবির মেঘ ও মেমোরি সমরেন্দ্র বিশ্বাস # সংকেতের দীর্ঘতম ক্লাউডের বাইরে কৃষিজীবি লোকটি শুধু মেঘকে চেনে । সে কম্পিউটর , ইন্টারনেট চেনে না । কয়েক একর জমিতে সে তার মেমোরিকে আটকে রাখে আকাশের মেঘ আর বর্ষার ক্লাউডে । সকাল - সন্ধ্যার বীজঘর থেকে সে উদ্ধার করে তার ধান ও গমের ওয়ার্ড ফাইল , মহাজনদের থেকে উদ্ধার করে ফোল্ডারের লুপ্তপ্রায় সফটওয়ার – তার সামনের কী - বোর্ডে নিজের জীবনের ভাঙ্গা কাট - আউট ইমেজ , কম্পিউটরে ভয়েসহীন বিপন্নতা , অনবরতই শুধু কাঁপা কাঁপা স্ক্রিন ! কৃষিজীবি লোকটির সামনের দিগন্ত জুড়ে পড়ে থাকে ঝাকঝাক পঙ্গপাল , ফাঁসের দড়ি আর স্যানিটাইজারবিহীন বছরের বিক্ষিপ্ত প্রোগ্রামিং !   Published in বম্বে Duck ,  e-issue . Sharadiya - 2020

ভুল

  ভুল # সমরেন্দ্র বিশ্বাস # চোখে ততখানি বাতি নেই , যত আগুনেরা বুকে তুষ , পিপাসায় জল যদি কাড়ো ? # আমি তোমাকেও বুঝি ভুল !   # # # © biswas.samarendra@hotmail.com [ কাব্যগ্রন্থ - হাওয়া শিকার ( প্রকাশ -1995)]  

অধিবাস

  অধিবাস সমরেন্দ্র বিশ্বাস # সারা রাত গোলাগুলির শব্দ চেঙ্গিজখান থেকে হিটলার এবং এ দেশের বিধ্বস্ত সময় । # এই রাতে আমি কোনো মশাল জ্বালাই নি । আমার কোনো বিজয় - উৎসব নেই - শুধু প্রদীপের যে শিখা হাওয়ায় নিভে যেতে পারে তাকে আগলে বাঁচিয়ে রাখতেই শুকতারা ছাপা মঙ্গল পিঁড়িতে আজ শেষ - রাতে আমি তোমাদের ডেকেছি ।   [ কাব্যগ্রন্থ – পিতৃস্মৃতি , উদ্বাস্ত শিক্ষিকা  ও অন্যান্য কবিতা ]

বোবা যুদ্ধ

  বোবা যুদ্ধ   সমরেন্দ্র বিশ্বাস # কিছু আলো কিছু অন্ধকার বোবা-যুদ্ধের মতো লটকে আছে! এখানে অনেকদিন গাছ থেকে কোন পাতা ঝরে পড়ে নি, এখানে কখনই মায়ের কোল থেকে ছিনিয়ে নেয়া হয় নি ছেলেকে, এখানে বল্লম নিয়ে কেউ কোনদিন মিছিল করে নি, এখানে অনেকদিন চেঁচিয়ে কোন কথা বলে নি, এখানে কেউ কোন শ্লোগান দিচ্ছে না, এখানে কেউ কারোকে অ্যারেষ্ট করছে না; মানুষেরা আসছে আর যাচ্ছে, নিরপরাধ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দেখছে আরো কোন নিরপরাধ দৃশ্য, বিস্ময়ে দেখছে জলের মধ্যে জেগে ওঠা আগ্নেয় দ্বীপের মৌনতা। যদিও এটা কোন সমুদ্র নয়, জীবনের বহমান নদীর মধ্যে জেগে উঠেছে উজ্জীবিত চর; এই জমায়েত অত্যন্ত নিঃশব্দ, শুধু নিঃশ্বাসের ওঠা নামার শব্দ। মুখোমুখি একদিকে সশস্ত্র পুলিশ, অন্যদিকে প্লাকার্ড হাতে কিছু নিরস্ত্র লোক । এখানে হাওয়ারা স্থির, এখানে কোন ছন্দময়তা নেই, এখানে কোন ছন্দপতনও নেই। হাই ভোল্টেজ কয়েক সারি শান্ত মুখ, পরনে বন্দীর পোষাক, শরীরে গারদের গন্ধ, প্লাকার্ডে লেখা তাদের কথাগুলো স্থির, – “সমস্ত রাজবন্দীর নিঃশর্ত মুক্তি চাই” ।     [ অনন্ত জলশব্দে আমি – 2016 ] ...

হরিশ্চন্দ্র ঘাট

Image
  হরিশ্চন্দ্র ঘাট #   সমরেন্দ্র বিশ্বাস   যে জীবন নেমে এসেছিলো মাটিতে বেড়ে উঠেছিল জল ও হাওয়ায় সে এখন ফিরে যাচ্ছে; ফিরে যাবার সময় কোন ব্যস্ততা নেই কোন দ্বিধা নেই কোলাহল নেই । ফিরে যাবার সময় সে সঙ্গে নিয়ে যাচ্ছে কিছু উত্তাপ কিছু কাঠ, কিছু ফুলমালা কিছু মায়া মমতা। ফিরে যাবার পথে সে কি দেখছে পাতার ডোঙ্গায় ডোঙ্গায় নদীতে-ভাসনো প্রদীপ? ফিরে যাবার পথে সে কি দেখছে জলে কাঁপতে থাকা ম্লান আলো, বহমান গঙ্গার স্তব্ধতা? আজ আর কোন দেখার দরকার নেই , রাত্রির আকাশে চোখ দুটো খুলে রেখে কেউ এখন ফিরে যাচ্ছে প্রশ্নভরা অন্ধকারে। চোখ-ভেজা ঘাটে দাউদাউ জ্বলছে মানুষের অনির্বান চিতা।   # [ 18.10.2015 , বারানসী ] Published –    দিগন্ত বলয় /   July- December 2016